ভূমিকা :
চোখ বন্ধ করে, চিন্তা-ভাবনা ছাড়া, দলীল ও প্রমাণ ব্যতীত নবী ছাড়া অন্য কারো কথা মানাকে (এবং
সেটাকে নিজের উপর আবশ্যিক মনে করাকে) তাক্বলীদ (মুত্বলাক বা নিঃশর্ত তাক্বলীদ) বলা
হয়।
তাক্বলীদের একটি প্রকার হ’ল তাক্বলীদে শাখছী। যাতে মুক্বাল্লিদ প্রকারান্তরে (আমলের ক্ষেত্রে) এই বিশ্বাস
পোষণ করে যে, ‘মুসলমানদের উপর চার ইমামের (মালেক, শাফেঈ, আহমাদ ও আবূ হানীফা)
মধ্য থেকে শুধুমাত্র একজন ইমামের (যেমন- পাক-ভারতে ইমাম আবূ হানীফার) (দলীলবিহীন
এবং ইজতিহাদী রায়সমূহের) তাক্বলীদ ওয়াজিব। আর অবশিষ্ট তিন ইমামের তাক্বলীদ হারাম’। তাক্বলীদের এ দু’টি প্রকার[1] বাতিল এবং প্রত্যাখ্যাত। যেমনটি কুরআন, হাদীছ, ইজমা ও সালাফে ছালেহীনের আছার দ্বারা প্রমাণিত। সম্মানিত শিক্ষক হাফেয যুবায়ের আলী যাঈ তাক্বলীদের (শাখছী এবং গায়ের শাখছী)
খন্ডনে একটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ লিখেন, ‘আল-হাদীছ’ (হাযারো) পত্রিকায় পাঁচ কিস্তিতে যেটিকে প্রকাশ
করা হয়েছিল (সংখ্যা ৮-১২)। এখন সকলের উপকারের জন্য উক্ত গবেষণাধর্মী প্রবন্ধটিকে সামান্য সংশোধন ও সংযোজন
সহ সাধারণ মুসলমানদের কল্যাণের নিমিত্তে প্রকাশ করা হ’ল। আল্লাহ তা‘আলার কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন নিজ
অনুগ্রহে মানুষদেরকে তাক্বলীদের অন্ধকার থেকে বের করে সালাফে ছালেহীনের বুঝ
অনুযায়ী কুরআন, হাদীছ ও ইজমার উপর পরিচালিত করেন-আমীন! وَاللهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
‘আল্লাহ সকল বস্ত্তর উপর ক্ষমতাবান’ (মায়েদাহ ৫/৪০)।
