মানুষকে
আল্লাহর ইবাদত থেকে ফিরিয়ে কথিত অন্তর্গুরুর ইবাদতে লিপ্ত করার অভিনব প্রতারণার
নাম হ’ল কোয়ান্টাম মেথড। হাযার
বছর পূর্বে ফেলে আসা হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান পাদ্রী ও যোগী-সন্ন্যাসীদের যোগ-সাধনার
আধুনিক কলা-কৌশলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেডিটেশন’। হতাশাগ্রস্ত
মানুষকে সাময়িক প্রশান্তির সাগরে ভাসিয়ে এক কল্পিত দেহভ্রমণের নাম দেওয়া হয়েছে Science
of Living বা জীবন-যাপনের বিজ্ঞান। আকর্ষণীয় কথার ফুলঝুরিতে ভুলে টাকাওয়ালা সাধারণ শিক্ষিত মানুষেরা এদের
প্রতারণার ফাঁদে নিজেদেরকে সঁপে দিচ্ছেন অবলীলাক্রমে। ব্যয়
করছেন কথিত ধ্যানের পিছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ঢেলে দিচ্ছেন হাযার হাযার
টাকা। অথচ একটা রঙিন স্বপ্ন ছাড়া তাদের ভাগ্যে কিছুই জুটছে না। অন্যদিকে মুসলমান যারা এদের দলে ভিড়ছে, তারা শিরকের মহাপাতকে লিপ্ত হয়ে দুনিয়া ও
আখেরাত দু’টিই হারাচ্ছে। নিম্নে
আমরা এদের আক্বীদা-বিশ্বাস ও কর্মনীতি যাচাই করব।-
কোয়ান্টামের পঞ্চসূত্র হ’ল, প্রশান্তি,
সুস্বাস্থ্য,
প্রাচুর্য,
সুখী পরিবার ও ধ্যান। বলা হয়েছে, কোয়ান্টাম
প্রত্যেকের ধর্মবিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করে।
সুখী মানুষের সবটুকু
প্রয়োজন পূরণের প্রক্রিয়াই রয়েছে কোয়ান্টামে। তাই
কোয়ান্টামই হচ্ছে নতুন সহস্রাব্দে আধুনিক মানুষের জীবন যাপনের বিজ্ঞান’। অন্যান্য
ডিগ্রীর ন্যায় এখানকার ধ্যান সাধনায় যারা উত্তীর্ণ হয়,
তাদেরকে ‘কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট’ বলে শ্রুতিমধুর একটা ডিগ্রী দেওয়া হয়। তাদের
প্রচার অনুযায়ী বাংলাদেশে ফলিত মনোবিজ্ঞানের পথিকৃৎ এবং আত্মউন্নয়নে ধ্যান পদ্ধতির
প্রবর্তক প্রফেসর এম.ইউ. আহমাদ নাকি ক্লিনিক্যালি ডেড হওয়ার পরেও পুনরায় জীবন লাভ
করেন শুধু ‘তাঁকে বাঁচতে হবে,
তিনি ছাড়া দেশে নির্ভরযোগ্য
মনোচিকিৎসক নেই’ তাঁর
এই দৃঢ় বিশ্বাসের জোরে’ (মহাজাতক, কোয়ান্টাম টেক্সট বুক, জানু. ২০০০, পৃঃ ২২-২৪)।
অর্থাৎ হায়াত-মউতের মালিক
তিনি নিজেই।
