----লিলবর আল-বারাদী
ভূমিকা: পৃথিবীতে মহান আল্লাহ মানব জাতীকে তাঁর দাসত্ব করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর সঠিক পথ ও পদ্ধতিতে
তাঁর ইবাদত করার জন্য মানব জাতীর প্রতি প্রেরণ করেছেন ঐশী সংবিধান পবিত্র কুরআন ও ছহীহ
সুন্নাহ্। এই ঐশী সংবিধান জেনে বুঝে তা পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র তথা সকল মানবজাতি পালন ও প্রতিষ্ঠা করার জন্য মহান আল্লাহ্
প্রশিক্ষণের যে ব্যবস্থা করেছেন তা হ’ল রামাযান মাসের ছিয়াম সাধনা। রামাযান মাসে ছিয়াম পালনের মধ্য দিয়ে মুসলিম
সমাজ তার সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা মহান আল্লাহরকে সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে যে প্রশিক্ষণ
গ্রহণ করে তা বাঁকী এগার মাস ব্যক্তিগত কর্মজীবনে তার প্রতিফলন ঘটে।
রামাযান মাসের তাৎপর্য :
রামাযান হ’ল হিজরী সনের ৮ম মাস। রামাযান শব্দের শাব্দিক অর্থ হ’ল দহন, দগ্ধকরণ, ভষ্মিভূত, জ্বালিয়ে দেয়া, পুড়িয়ে ফেলা ইত্যাদি। এ মাস হলো ইবাদতের
মাধ্যমে তাক্বওয়া অর্জন, আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নৈকট্য হাছিল এবং জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ ও জান্নাত
লাভের সুযোগ। মানব জীবনে দু’টি ধারা প্রবাহিত হয় এক. সুপ্রবৃত্তি দুই. কুপ্রবৃত্তি। আমাদের সমাজ জীবনে সম্প্রীতি-মৈত্রী,
ঐক্য-সংহতি,
নৈতিক সংস্কৃতি দৃঢ়
করণের মাধ্যমে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের পথে অবিচল থাকতে বিশেষ ভূমিকা রাখে সুপ্রবৃত্তি। অপরদিকে আমাদের সুষ্ঠ
সুশীল সমাজ ব্যবস্থা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে অনৈক্য-সহিংসতা,
দাঙ্গা-হাঙ্গামা,
অনৈতিক সংস্কৃতি তথা
পাপের পথে আহবান করে কুপ্রবৃত্তি। আর কুপ্রবৃত্তি ভষ্মিভূত করার জন্যই এ দুনিয়ায় মহান আল্লাহ্
রামাযানের বিশেষ পশিক্ষণের প্রবর্তন করেছেন, যাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন মুসলমান এ
বিশ্বে তার প্রকৃত স্থান নির্দিষ্ট করতে পারে এবং আল্লাহ্র প্রতিনিধি হিসাবে আল্লাহ্র
সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে। রামাযান মাসের তাৎপর্য সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,
رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانُ ثُمَّ
انْسَلَخَ قَبْلَ أَنْ يُغْفَرَ لَهُ-
‘সেই ব্যক্তির নাক মাটিতে
মিশে যাক, যে রামাযান পেল, অথচ নিজেকে ক্ষমা করে নিতে পারল না’ ।
