-----লিলবর আল-বারাদী
ভূমিকা : রোহিঙ্গারা আমাদের প্রতিবেশী ও
মুসলিম ভাই। তাদের উপর যে
অত্যাচার নেমে এসেছে তা মানুষ হিসাবে কারো কাম্য নয়। মিয়ানমারের বৌদ্ধদের টার্গেট একমাত্র মুসলিম
জাতি। রোহিঙ্গাদের কোন
অপরাধ নেই। তাদের একটি মাত্র
অপরাধ তারা মুসলিম। মহান আল্লাহ আমাদেরকে
হযরত আদম ও হাওয়া (আঃ)-এর মাধ্যমে সারা দুনিয়াতে গোত্র, ভাষা ও বর্ণের বিভাজনে সমস্ত মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। এ সম্পর্কে মহান
আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِّنْ ذَكَرٍ وُّأُنْثَى
وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوْباً وَّقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوْا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ
اللهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللهَ عَلِيْمٌ خَبِيْرٌ. ‘হে মানব জাতি!
আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী হ’তে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বহু সম্প্রদায় ও
গোত্রে বিভক্ত করেছি। যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হ’তে পার। তবে আল্লাহর নিকটে সেই শ্রেষ্ঠ, যে সবচেয়ে বেশী আল্লাহভীরু। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর খবর রাখেন’ (হুজুরাত ৪৯/১৩)। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, النَّاسُ بَنُوْ آدَمَ وَآدَمُ
مِنْ تُرَابٍ ‘মানুষ আদমের
সন্তান,
আর আদম মাটির তৈরী’।[1]
সম্প্রতি পত্রপত্রিকা এবং স্যোসাল মিডিয়াতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর যে
মর্মান্তিক নির্যাতনের খবর প্রকাশিত হচ্ছে তাতে প্রতিটি হৃদয়বান ব্যক্তির হৃদয়ে
রক্তক্ষরণ হচ্ছে। কারণ তারা আমাদের
নিকটতম প্রতিবেশী ও মুসলিম ভাই। তারা আমাদের কাছে কিছুই চায় না, চায় শুধু আশ্রয়। আমরা কি তাদেরকে মাথা গোঁজার সুযোগ করে দিতে পারি না? রোহিঙ্গারা চাতক পাখির মত আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। অশ্রুসিক্ত নয়নে দু’হাত উঠিয়ে
মহান আল্লাহর দরবারে কাকুতি-মিনতি করে ফরিয়াদ করছে তাদেরকে উদ্ধার করার জন্য। অথচ তাদের সাহায্যে
কেউ এগিয়ে আসছে না। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওআইসিও
নীরব-নিশ্চুপ। সবাই যেন মুখে কুলুপ
এঁটেছে। ভাবখানা এমন যে, রোহিঙ্গারা মানুষ নয়। আসলে এই রোহিঙ্গারা কারা? তাদের প্রতি আমাকে কতটুকু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। এ সম্পর্কেই নিম্নোক্ত আলোচনা।-
