![]() |
-মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
يَا أَيُّهَا
الَّذِيْنَ آمَنُوْا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنصَابُ وَالأَزْلاَمُ
رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ-
إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُوْقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ
وَالْبَغْضَاء فِيْ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ اللهِ
وَعَنِ الصَّلاَةِ فَهَلْ أَنْتُم مُّنْتَهُوْنَ-
আল্লাহ
বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, পূজার বেদী
ও ভাগ্য নির্ধারক শর সমূহ শয়তানের নাপাক কর্ম বৈ কিছুই নয়। অতএব
এগুলো থেকে বিরত হও। তাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হবে’। ‘শয়তান
তো কেবল চায়, মদ
ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে পরস্পরে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর
স্মরণ ও ছালাত হ’তে
তোমাদেরকে বাধা প্রদান করতে। অতএব তোমরা নিবৃত্ত হবে কি?’ (মায়েদাহ
৫/৯০-৯১)।
উপরোক্ত
আয়াতে প্রধান চারটি হারাম বস্ত্ত হ’তে
বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, সূরা
মায়েদাহ কুরআনের শেষ দিকে নাযিল হওয়া সূরা সমূহের অন্যতম। অতএব
এখানে যে বস্ত্তগুলি হারাম ঘোষিত হয়েছে, সেগুলি আর মনসূখ হয়নি। ফলে
তা ক্বিয়ামত পর্যন্ত চিরন্তন হারাম হিসাবে গণ্য। অসংখ্য
নিষিদ্ধ বস্ত্তর মধ্যে এখানে প্রধান চারটির উল্লেখ করার মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে, এ চারটি
হারাম বস্ত্ত আরও বহু হারামের উৎস। অতএব এগুলি বন্ধ হ’লে অন্যগুলিও বন্ধ হয়ে যাবে।
১. الْخَمْرُ অর্থ মদ। خَمَرَ يَخْمُرُ خَمْرًا অর্থ سَتَرَ গোপন করা। ওড়নাকে
আরবীতে ‘খেমার’ (خِماَرٌ) বলা হয় এজন্য যে, তা মহিলাদের
মাথা ও বুক আবৃত করে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, خَمِّرُوا الآنِيَةَ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللهِ عَلَيْهَا ‘তোমরা তোমাদের পাত্র সমূহ ঢেকে রাখ এবং তার
উপরে আল্লাহর নাম স্মরণ কর’।[1] ওমর ফারূক
(রাঃ) বলেন, الْخَمْرُ مَا خَامَرَ الْعَقْلَ ‘মদ তাই, যা মানুষের বিবেককে আচ্ছন্ন করে’।[2] সে সময় আরব
দেশে আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও যব সহ
পাঁচটি বস্ত্ত থেকে মদ তৈরী হ’ত।[3] তবে
প্রধানতঃ আঙ্গুর থেকেই সচরাচর মদ তৈরী হ’ত। যেমন
বলা হয়েছে, النَّيُّ مِنْ مَاءِ الْعِنَبِ إِذَا غَلاَ
وَاشْتَدَّ وَبَلَغَ حَدَّ الْإِسْكَارِ- ‘মদ
হ’ল আঙ্গুরের কাঁচা রস যখন পচে
গরম হয় এবং ফুলে ফেনা ধরে যায় ও চূড়ান্ত নেশাকর অবস্থায় পৌঁছে যায়’।

