(সংকলিত)
‘মাযহাব’ (مذهب)
শব্দের অর্থ মত, পথ,
মতবাদ, আদর্শ, বিশ্বাস ইত্যাদি। পরিভাষায় মাযহাব বলতে আক্বীদা, ফিক্বহ, উছূলে ফিক্বহ, ইলমে হাদীছ, আরবী সাহিত্য
ও অন্যান্য শারঈ বিষয়ে কোন বিদ্বানের অভিমতকে বুঝায়। এ মাযহাব হ’ল দ্বীন ইসলামের মধ্যে নতুন সংযোজন। চতুর্থ হিজরীর পূর্বে
যার কোন অস্তিত্ব ছিল না। ভারতগুরু নামে খ্যাত বিশিষ্ট হানাফী আলেম শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) তাঁর
জগদ্বিখ্যাত গ্রন্থ ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’-তে অকপটেই স্বীকার করেছেন যে, ‘চতুর্থ হিজরীর
পূর্বে লোকেরা কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাযহাবের মুক্বাল্লিদ ছিলেন না’।[1]
যেহেতু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম ও
তাবেঈনে এযামের কোন যুগে মাযহাবের অস্তিত্ব ছিল না। সুতরাং এটা দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি বা বিদ‘আত।
যে সকল মুহাক্কিক্ব মুজতাহিদ আল্লাহভীরু ইমামগণের নামে তাঁদের মৃত্যুর পরে ‘মাযহাব’ তৈরী করা
হয়েছে। ইমাম চতুষ্টয়ের কেউই
মাযহাব মানতে বলে যাননি। বরং তাঁরা সকলেই বলেছেন, আমাদের রায়ের বিপক্ষে
হাদীছ পাওয়া গেলে আমাদের রায়কে প্রত্যাখ্যান করে হাদীছ মেনে নিবে। যেমন-
ইমাম আবু হানীফা (রহঃ)-এর অভিমত :
ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) তাঁর অনুসরণের ব্যাপারে বিভিন্ন উক্তি করেছেন। তিনি বলেন,
(1) إِذا صَحَّ الْحَدِيثُ فَهُوَ مَذْهَبِي-
১. ‘যখন ছহীহ হাদীছ পাওয়া যাবে, (জেনো) সেটাই আমার
মাযহাব’।[2]
(2) حرام على من لم يعرف دليلى أن يفتى بكلامي-
২. ‘যে ব্যক্তি আমার দলীল অবগত নয়, আমার কথা
দ্বারা ফৎওয়া দেয়া তার জন্য হারাম’।[3]
(3) لاَ يَحِلُّ لِأَحَدٍ أَنْ يَأْخُذَ بِقَوْلِنَا
مَالَمْ يَعْلَمْ مِنْ أَيْنَ أَخَذْنَاهُ-
৩. ‘ঐ ব্যক্তির জন্য আমাদের কোন বক্তব্য গ্রহণ করা হালাল হবে না, যে ব্যক্তি জানে না আমরা তা কোথা থেকে গ্রহণ করেছি’।[4]
(4) إذا قلتُ قولاً يخالف كتاب الله تعالى، وخبر الرسول
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؛ فاتركوا قولي-
৪. ‘আমি যদি এমন কথা বলি যা আল্লাহর কিতাব ও রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছের পরিপন্থী হয়, তাহ’লে আমার কথাকে ছুঁড়ে ফেলে দিও’।[5]
(৫) إننا بشر نقول
القول اليوم ونرجع عند غدًا-
৫. ‘নিশ্চয়ই আমরা মানুষ, আজ আমরা যা বলি, আগামীকাল তা থেকে ফিরে আসি’।[6]
