ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
আমীর, আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ
(সম্পাদকীয়, আত-তাহরীক, মে 2018 সংখ্যা)
‘সালাফী’ অর্থ পূর্বসূরীদের অনুসারী। ইসলামী পরিভাষায় এর অর্থ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের তরীকার অনুসারী। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ইহূদীরা ৭১ ফের্কায়, নাছারারা ৭২ ফের্কায় এবং আমার উম্মত ৭৩ ফের্কায় বিভক্ত হবে। তার মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত দল হবে মাত্র একটি। যারা আমার ও আমার ছাহাবীগণের তরীকার উপরে চলবে’ (তিরমিযী হা/২৬৪১; ইবনু মাজাহ হা/৩৯৯২)। এক্ষণে সেই হকপন্থী জামা‘আত বা নাজী ফের্কা কোনটি, সে সম্পর্কে সালাফে ছালেহীন বিদ্বানগণ এক বাক্যে বলেছেন যে, তারা হ’ল আহলুল হাদীছ-এর দল। যেমন (১) ইমাম বুখারী (রহঃ)-এর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, ‘উক্ত দল হ’ল ‘আহলুল হাদীছ জামা‘আত’। যারা রাসূলের বিধানসমূহের হেফাযত করে ও তাঁর ইল্ম কুরআন ও হাদীছের পক্ষে প্রতিরোধ করে। নইলে মু‘তাযিলা, রাফেযী (শী‘আ), জাহমিয়া, মুরজিয়া ও আহলুর রায়দের নিকট থেকে আমরা সুন্নাতের কিছুই আশা করতে পারি না। বিশ্বপ্রভু এই বিজয়ী দলকে দ্বীনের পাহারাদার হিসাবে নিযুক্ত করেছেন এবং ছাহাবা ও তাবেঈনের সনিষ্ঠ অনুসারী হবার কারণে তাদেরকে হঠকারীদের চক্রান্তসমূহ হ’তে রক্ষা করেছেন। .. এরাই হ’লেন আল্লাহর সেনাবাহিনী। নিশ্চয়ই আল্লাহর সেনাবাহিনী হ’ল সফলকাম’ (শারফ ৫)। (২) ইয়াযীদ ইবনে হারূণ ও ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) বলেন, ‘তারা যদি আহলেহাদীছ না হন, তবে আমি জানি না তারা কারা? (তিরমিযী)। ইমাম বুখারীও এবিষয়ে দৃঢ়মত ব্যক্ত করেছেন’। ক্বাযী ইয়ায বলেন, ইমাম আহমাদ (রহঃ) একথা দ্বারা আহলে সুন্নাত এবং যারা আহলুল হাদীছ-এর মাযহাব অনুসরণ করে, তাদেরকে বুঝিয়েছেন’ (ফাৎহুল বারী হা/৭১-এর ব্যাখ্যা)। (৩) ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, ‘যখন আমি কোন আহলেহাদীছকে দেখি, তখন আমি যেন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জীবন্ত দেখি’ (শারফ ২৬)। (৪) খ্যাতনামা তাবেঈ আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (১১৮-১৮১ হিঃ) বলেন, ‘নাজী দল হ’ল আহলেহাদীছ জামা‘আত’।... লোকদের মধ্যে তারাই ছিরাতে মুস্তাক্বীম-এর উপর সর্বাপেক্ষা দৃঢ়’ (শারফ ১৫, ৩৩)। (৭) আহমাদ ইবনু সারীহ বলতেন, ‘দলীলের উপর কায়েম থাকার কারণে আহলেহাদীছগণের মর্যাদা ফক্বীহগণের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে (শা‘রানী, মীযানুল কুবরা ১/৬২)। (৮) ইমাম আবুদাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘আহলেহাদীছ জামা‘আত যদি না থাকত, তাহ’লে ইসলাম দুনিয়া থেকে মিটে যেত’ (শারফ ২৯ পৃঃ)।
