মূল (উর্দূ) : মাওলানা আব্দুল কাদের হিছারী
অনুবাদ : নূরুল ইসলাম
পিএইচ.ডি. গবেষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
পিএইচ.ডি. গবেষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
[প্রখ্যাত আহলেহাদীছ আলেম মাওলানা আব্দুল কাদের হিছারী ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের হিছার যেলার গঙ্গা গ্রামে ১৯০৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর দাদা ও পিতা উভয়ে আলেম ছিলেন। পিতা মাওলানা মুহাম্মাদ ইদরীসের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পর উচ্চশিক্ষা অর্জনের নিমিত্তে তিনি ফিরোযপুর যেলার লাক্ষৌকেতে যান। সেখানে মাওলানা মুহাম্মাদ আতাউল্লাহ লাক্ষাবীর কাছে ফুনূনের কিতাব সমূহ এবং মাওলানা মুহাম্মাদ আলী লাক্ষাবীর কাছে তাফসীর ও হাদীছের গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করেন। ফারেগ হওয়ার পর নিজ গ্রামে পাঠদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। এ সময় তিনি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ লিখতেন। দেশ বিভাগের পূর্বে ‘আখবারে মুহাম্মাদী’ (দিল্লী), ‘তানযীমে আহলেহাদীছ’ (রোপাড়), মাওলানা ছানাউল্লাহ অমৃতসরী সম্পাদিত ‘আখবারে আহলেহাদীছ’ (অমৃতসর) প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর প্রবন্ধগুলো প্রকাশিত হ’ত। ‘তানযীমে আহলেহাদীছ’ পত্রিকায় তাঁর একটি প্রবন্ধ ৪০-এর অধিক কিস্তিতে সমাপ্ত হয়। সমসাময়িক কোন পত্রিকায় আহলেহাদীছ মাসলাকের বিরুদ্ধে কোন প্রবন্ধ প্রকাশিত হ’লে সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার জবাবে প্রবন্ধ লিখতেন। অমৃতসর থেকে প্রকাশিত ‘আল-ফাক্বীহ’ পত্রিকায় ফাইয়ায নামে এক ব্যক্তি আহলেহাদীছদের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা চালালে তিনি ‘তানযীমে আহলেহাদীছ’ পত্রিকায় ২৭ কিস্তিতে তার বিস্তারিত জবাব দেন। দেশ বিভাগের পর তিনি পাকিস্তানে হিজরত করেন। তিনি ভাল বক্তা ও মুনাযির ছিলেন। ‘সুলতানুল মুনাযিরীন’ (তার্কিকদের সম্রাট) খ্যাত মাওলানা আব্দুল কাদের রোপড়ীর (১৯১৫-১৯৯৯) সাথে তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অনেক মুনাযারায় অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর বিকাল ৫-টায় বুরেওয়ালায় মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। মাওলানার প্রবন্ধ ও ফৎওয়াগুলো ‘ফাতাওয়া হিছারিয়াহ ও মাক্বালাতে ইলমিইয়াহ’ নামে ৭ খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশের অধিক। তন্মধ্যে ‘আছলী আহলে সুন্নাত’ (আসল আহলে সুন্নাত) অন্যতম।[1]]
