-প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
--------------------------------------------------
তাওহীদের সাথে শিরকের সম্পর্ক যেমন ওযূর সাথে বায়ু নিঃসরণের সম্পর্ক। তাওহীদ থাকলে শিরক থাকবেনা, শিরক থাকলে তাওহীদ থাকবেনা। দু’টির মাঝে আপোষের কোন সুযোগ নেই। তাওহীদের চেতনা হ’ল সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দাসত্বের অধীনে সকল মানুষের সমানাধিকার নিশ্চিত করা। আর শিরকের চেতনা হ’ল সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সাথে সৃষ্টির দাসত্ব করা। যেখানে শরীক হয় মুখ্য এবং আল্লাহ হন গৌণ। যেমন মক্কার মুশরিকরা কা‘বাগৃহ ত্বাওয়াফ করার সময় বলত, লাববাইকা লা শারীকা লাকা, ইল্লা শারীকান হুয়া লাক; তামলিকুহু ওয়া মা মালাক’ (আমি হাযির; তোমার কোন শরীক নেই, কেবল ঐ শরীক ব্যতীত যা তোমার জন্য রয়েছে। তুমি যার মালিক এবং সে যা কিছুর মালিক’) (মুসলিম হা/১১৮৫)। নিজ বংশীয় এই শরীক পূজারী কুরায়েশদের সাথেই রাসূল (ছাঃ)-এর আজীবন যুদ্ধ করতে হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিকট আমরা রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর দাসত্ব কর এবং ত্বাগূত থেকে বিরত হও’ (নাহল ১৬/৩৬)। ত্বাগূত অর্থ মূর্তি, শয়তান ইত্যাদি। বস্ত্ততঃ সকল শক্তি ও সকল সম্মান কেবলমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত (বাক্বারাহ ২/১৬৫; ইউনুস ১০/৬৫)। তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনি স্থায়ী ও চিরঞ্জীব। তিনিই রূযীদাতা, তিনিই পালনকর্তা, তিনি বিধানদাতা ও সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। তিনি ব্যতীত অন্য কেউই আমাদের শর্তহীন আনুগত্য ও উপাসনা পাবার যোগ্য নয়। তিনি ব্যতীত অন্য কারু নিকটে মানুষের উন্নত মস্তক অবনত হবেনা।
