- লিলবর আল-বারাদী
লোভ হলো লিপ্সা বা কাম্য বস্তু লাভের প্রবল ইচ্ছা। বিনা লোভে কোন কাজও হয়না আবার লোভ নেই এমন মানুষও নেই। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যত কাজকর্ম রয়েছে তার প্রতিটির পেছনে নিহীত রয়েছে লোভ। বিনা লোভে পৃথিবীতে কিছুই হয় না। লোভ আছে বলেই মানুষের বেঁচে থাকার স্পৃহা আছে, জাগতিক ও পারলৌকিক আশা-আকাংখা তথা অভিপ্রেত অনুভূতি আছে।
তবে লোভের রকমফের রয়েছে। কথায় বলে-অতি লোভে তাঁতী নষ্ট। আসলে অতি লোভের পরিণাম হিসেবে আসে পাপ এবং পাপের পরিণতি মৃত্যু। পৃথিবীতে মানুষ যে লোমহর্ষক কর্মকান্ড করছে তার মূলে রয়েছে অতি লোভ। লোভ যদি কোন মানুষকে পাইয়ে বসে তখন তার হিতাহিত জ্ঞান থাকে না।
লোভকে বাস্তবায়ন বা চরিতার্থ করার জন্য মানুষ যে কোন অসৎ উপায় অবলম্বন করতে পারে। অতি লোভ মানুষকে পাপের সমুদ্রে অবগাহন করিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। বিশেষ করে নারীর লোভ, অর্থ সম্পদের লোভ, সুনাম অর্জনের লোভ ও নেতৃত্ব লাভের লোভই মানুষের জীবনকে চরম ও ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। তখনই লোভ মানব জীবনের বড় রিপু বলে বিবেচিত হয়। আর তাইতো লোকে বলে- ‘লোভে পাপ পাপে মৃত্যু’।
মানুষ যখন লোভের বশীভূত হয়ে পড়ে তখন তার মানবতা, বিবেক, সুবুদ্ধি লোপ পায়। সে স্বপনচারী হয়ে কল্পনার বিশাল রাজ্যের রাজা হয়ে লোভান্ধ হয়। তখনই সে লোভের কলংকিত কালিমায় নিক্ষিপ্ত হয়ে যায় এবং সমূহ বিপদ ও ভয়াল সর্বনাশ তাকে ঘিরে ফেলে। কিন্তু এ লোভকে সংবরণ করে, সংযম করে বা নিয়ন্ত্রণ করে হিতাহিত বোধকে জাগ্রত করে তার জীবন ও জগতের কল্যাণ বিবেচনা করে কাজ চালাতে পারলে সে লোভ তাকে নিতান্ত সুখ স্বর্গে নিক্ষেপ করে। নিয়ন্ত্রিত লোভ পৃথিবীকে সাজিয়ে দিতে পারে অনাবিল আরাম আর কল্যাণময় উন্নতির পুষ্প বাগানে।
